এক জিলাপির দাম ৪৭০ টাকা

 

ইফতার আইটেম যে কত রকমের হতে পারে তা বোঝা যাবে না, চকবাজারে না গেলে। নানা রকম আর ধরনের ইফতারের ভিড়ে শাহী জিলাপির কথা না বললেই নয়। ঢাউস আকারের কারণে চোখে না পড়ার সুযোগ নেই। তবে কেবল আকারের জন্য যুগের পর যুগ টিকে থাকা যায়? স্বাদের ভিন্নতাই এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

বেশ মোটা, প্যাঁচানো এই জিলাপি দেখলে জিভে জল চলে আসবে অনায়াসে । সুস্বাদু এই শাহী জিলাপি তৈরি করা হয় মাসকলাইয়ের ডাল, বেসন, ঘি, ডালডা, ময়দা দিয়ে । এরকমই বর্ণনা দিয়েছেন চকবাজারের এক শাহী জিলাপি বিক্রেতা।

তবে শাহী জিলাপির প্রকারভেদও  রয়েছে । কোনটা এক কেজি, কোনটা দেড় কেজি , কোনটা দুই কেজি কোনটা আবার আড়াই কেজিও হয়ে থাকে ।

 

আকার যত বড়, দামও তত বেশি। এক কেজি শাহী জিলাপির দাম পড়ে ১৮০ টাকা। দেড় কেজি হলে ২৫০  টাকা , দুই কেজির হলে কেজি ৪০০ টাকা এবং আড়াই কেজির একটি জিলাপির দাম হয় ৪৭০ টাকা ।

দাম যাই হোক ভোজনরসিক মানুষদের কাছে শাহী জিলাপি সবচেয়ে প্রিয় এখানে। একদিকে বানাতে বানতেই অন্য দিকে শেষ হয়ে যায়, শেষ বেলায় আর অবশিষ্ট কিছুই থাকে না ।

শাহী জিলাপির মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী হল আড়াই কেজির শাহী জিলাপি । অনেক দিন ধরে তা পুরান ঢাকার ঐতিহ্য বহন করে আসছে ।

চকবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে থেকে জানা যায়, চকবাজারে শাহী মসজিদের সামনে যবে থেকে ইফতার বিক্রির আয়োজন করা হয় তখন থেকেই থাকছে বেশ বড় মাপের প্যাঁচানো এই শাহী জিলাপি ।

 

শাহী জিলাপি কিনতে সূত্রাপুর থেকে চকবাজারে এসেছিলেন  ফারুক উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি চকবাজারের ইফতার প্রতি বছর একবার হলেও নেই, আর আমার ইফতার তালিকায় শাহী জিলাপির নামটি সবসময়ই থাকে । বিভিন্ন রকমের উপাদান দিয়ে তৈরি এই শাহী জিলাপির স্বাদ আমার বেশ ভাল লাগে । তাই প্রতিবারই নিয়ে থাকিআমি।’

এক ক্রেতা আবুল বাশার এসেছেন সেগুনবাগিচা থেকে। শাহী জিলাপি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি আগে কখনই খাইনি। তবে আমার নানি প্রায় বলে পুরান ঢাকার আড়াই কেজি শাহী জিলাপির কথা। তাই এবার কিনতে এলাম। একবারে স্বাদ নিয়েই দেখি এই শাহী জিলাপির।’

তবে জিলাপির দিন কমে আসছে কি না বুঝতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা । তারা জানান, ইফতারের জন্য কয়েক বছর আগেও শাহী জিলাপির দোকান বসতো ১০ থেকে ১৫ টি। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে সাতটিতে ।

শাহী জিলাপির পাশাপাশি চরবাজারে রয়েছে চিকন জিলাপি, প্যাঁচ জিলাপি, বোম্বাই জিলাপি, রেশমি জিলাপি, আমিত্তিসহ মুখরোচক খাবার।

 

এর মধ্যে রেশমি জিলাপি ১৬০ টাকা, সাধারণ জিলাপি ১৪০ টাকা, চিকন জিলাপি প্রকারভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

চকবাজারের মিষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে রয়েছে আরো কয়েকটি মুখরোচক নাম। সেগুলো হল, ছানার মিষ্টি, ফিরনি, মিষ্টি শিঙ্গাড়া, মিষ্টি রোল, রস বড়ি, ফালুদা, বুড়িন্দা ইত্যাদি ।

ক্রেতাদেরাও বেশ ভালই কিনছে মিষ্টি উপদানগুলো। বেলা বাড়ায় সাথে সাথে বেড়ে যায় ক্রেতাদের সংখ্যা । মাগরিবের আজানের এক ঘন্টা, দেড় ঘন্টা আগে থেকে পুরো চকবাজারের রাস্তাগুলো জনাকীর্ণ হয়ে উঠে । শুধু মানুষের মাথা দেখা যায় তখন, আর শোনা যায় কয়েকটা আওয়াজ, ‘আসেন লিয়া যান চক বাজারের ইফতার , আগে আসলে আগে পাইবেন আর পরে চিপায় পড়বেন।’

Facebook Comments