ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার আগুন পান

পান খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। সাধারণত পানের সঙ্গে থাকে চুন ও সুপারি। এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জর্দাও খেয়ে থাকেন অনেকে।

তবে ভারতের এক ব্যবসায়ী উদ্ভাবন করেছেন এক অনন্য ধরনের পান। সেই পান বানিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে গ্রাহকের মুখে তুলে দেন তিনি।

ডেইলি মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোট নগরের পান বিক্রেতা চুন্নি লাল। ৩০ বছর ধরে পান বিক্রি করেন ৪৮ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী। তাঁর উদ্ভাবিত ‘আগুন পান’ দেশটির বিভিন্ন নগর ও শহরে বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে তিনিও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

রাজকোটের ২৪ বছর বয়সী যুবক রমন সিং প্রতি রাতে খাবার পর চুন্নি লালের আগুন পান খান। তিনি বলেন, ‘রাতের খাবারের পর এই পান না হলে চলে না। প্রথমে ভয় ভয় করলেও চিবনো শুরুর পর মুখে শীতলতা আসে। আর এই পান খেলে গলা ব্যথা কমে।’

রাজকোটের অন্য পান বিক্রেতারাও এই ধরনের পান বিক্রি শুরু করেছেন বলে জানান রমন।

রাজকোটে এত দিন পানের সঙ্গে চুন, সুপারি, জর্দা, লবঙ্গ, এলাচ, ধনিয়া ইত্যাদি খাওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু আগুন পানের কারণে অন্য ধরনগুলোর চাহিদা কমেছে। আগুন পানের মধ্যে সুপারি, চুনের সঙ্গে লবঙ্গ দেওয়া হয়।

চুন্নি লাল বলেন, ‘আমরা ২৫ ধরনের পান বিক্রি করি। এর মধ্যে চকোলেট, মিন্টসহ হরেক রকমের স্বাদের পান রয়েছে। ব্যবসার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতেই আমরা এই নতুনত্ব এনেছি। প্রথম দিকে এটি খেতে মানুষ সংশয় বোধ করত। তবে এখন এটিই বেশি পছন্দ করে ক্রেতারা।

পুরান ঢাকার  নাজিরা বাজার চার রাস্তার মোড়ের এক কোনায় ‘আল্লাহর দান জলিলের মিষ্টি পান’ নামের ছোট একটি দোকান। দোকানটি ছোট হলেও গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে এক রকম হিমশিম খেতে হয় দোকানিকে। এই দোকানের সবচেয়ে আকর্ষণের বিষয় ‘আগুন পান’। পানের মধ্যে রকমারি মসলা দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর আগুনসহ পানটি পুরে দেয়া হয় ক্রেতার মুখে।

 

 

জলিল জানালেন কিভাবে এই আগুন পান বিক্রি শুরু করলেন তিনি। বললেন, মাস ছয়েক আগে আমার পরিচিত কয়েকজন বড় ভাই ভারতে বেড়াতে গিয়ে এই আগুন পান খেয়ে এসেছিলেন। তাদের মুখ থেকেই আমি শুনি কিভাবে এই পান বানানো হয়। পরে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই পান বানিয়ে ফেলি। এরপর থেকেই আমার দোকানে এই আগুন পান বিক্রি করছি।

 

আগুন-সহ পান মুখে দিতে মানুষ ভয় পায়না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা প্রথমবার এই পান খান তারা হয়তো একটু ভয়ে ভয়ে খান। কিন্তু একবার খাওয়ার পর আর সেই ভয় থাকে না। মানুষ খুব স্বাদ নিয়ে এই পান খান। অল্প কয়েকদিনেই এই পানের চাহিদা মানুষের কাছে বেড়ে গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আগুন পান খেতে এখানে আসেন। তাই গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে এখন ২৪ ঘণ্টাই দোকান খোলা রাখা হয়।

 

আগুন পানে কোন কোন মসলা ব্যবহার করা হয় জানতে চাইলে আবদুল জলিল জানান, এই পানে ১৮ ধরনের মসলা ব্যবহার করা হয়। ঘি, মধু, মোরব্বা, নারিকেল, জেলি, খেঁজুর, রকমারি পান মসলা, ফ্লেবার এগুলো দিয়ে এই পান বানানো হয়। মূলত ফ্লেবারটার কারণেই আগুন জ্বলে।

 

দোকানে আর কয় ধরনের পান বিক্রি করা হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগুন পান ছাড়াও আমরা দিলখোশ পান, শাহী পান, বেনারশী পান, বউ জামাই পান, কিমাম পান, মুম্বাই পান ও কস্তুরী পান বিক্রি করি। তবে আগুন পান বিক্রি শুরুর পর থেকে দোকানের গ্রাহক অনেক বেড়ে গেছে। তাই ২৪ ঘণ্টা দোকান খোলা রাখা হয়, দুই শিফটে চারজন কর্মচারী কাজ করে। এসব বাহারি পানের দাম ১৫ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

Facebook Comments