কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষককে এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়ার প্রেক্ষীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আলী আশরাফকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে শিক্ষকরা।

৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষক উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

জাতীয় শোক দিবসে ‘ক্লাস নেওয়ার অপরাধে’ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুল হক ভূঁইয়া তারেককে এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান জানান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৫০-৬০ জন শিক্ষক উপচার্যকে অবরুদ্ধ করেছে। শিক্ষকদের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে এই ছুটির আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় তাদেরও বাধ্যতামূলক ছুটির দিতে হবে। তিনি জানান, উপাচার্যের এককভাবে নেয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের এই অবরোধ কার্যক্রাম চলবে।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান আরও বলেন, প্রভাষক মাহবুবুল হককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর পর শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের সাথে কথা বলতে যায়। কিন্তু তিনি শিক্ষক সমিতিকে সময় দেননি।

“১৫ই আগস্ট যাদের ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এবং সেদিন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে লিখিত দিয়েছেন, যে তাদের পরীক্ষা চলছে। তাই ক্লাস নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরও উপাচার্য এককভাবে প্রভাষক মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” বলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ মুজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযোগ এনে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠে সামাজিক মাধ্যমে। ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমন পরিস্তিতির মধ্যেই মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আলী আশরাফ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ছাত্রলীগের অভিযোগসহ ক্যাম্পাসে উদ্ধুত পরিস্থিতির কারণে তাকে ১ মাসের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ক্লাস নেওয়া যায় কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্নে উপাচার্য বলেন: তাহলে সে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাসরুমে কী করছিল?

তবে ক্লাস নেওয়া হয়েছিল কিনা তা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদেরকে স্বল্পতম সময়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

শোক দিবসে ওই শিক্ষক ক্লাস নিয়েছেন বলে শোক দিবসের অবমাননা হয়েছে দাবি করে তার পদত্যাগ চেয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। তাকে বহিষ্কারের দাবি করে উপাচার্যকে স্মারকলিপিও দেয় তারা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার ডিনদের সঙ্গে বৈঠক করেন উপাচার্য। বৈঠকের একদিন পরেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল প্রশাসন।

Facebook Comments