দিন শেষে লিড টাইগারদের হাতে

প্রথম দিনের স্বপ্নের পালে হাওয়া লেগেছে সোমবারের মিরপুরে। তার অনেকখানি কৃতিত্ব সাকিব আল হাসানের।

এই নিয়ে ৯টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেয়ার নজির গড়লেন তিনি। ইতিহাসে এমন কীর্তি আছে আর তিনজনের। এমন দিনে ৯ উইকেট হাতে রেখে ৮৮ রানে এগিয়ে থাকলেও সৌম্য-ঝরার শব্দ শোনা গেছে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগের ওভারে অ্যাগারকে উড়িয়ে মারতে যেয়ে খাজার হাতে জীবন দিলেন নাকি একাদশের বাইরে যাওয়ার চাবি রাখলেন, সেটা ভাববার বিষয়।

সৌম্য ফিরে যাওয়ার পর বাকি সময়টুকু পার করতে ক্রিজে আসেন তাইজুল ইসলাম। নাইটওয়াচ-ম্যান তাইজুল (০) নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবেই সামলেছেন। নয়টি বল খেলতে হয়েছে তাকে। সঙ্গে আছেন আগের ইনিংসে ৭১ রান করা তামিম ইকবাল। তিনি খেলছেন ৩০ রানে।

দ্বিতীয় দিন ১২৪ রানের ভেতর সাত উইকেট ফেলে দেয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার অ্যাগার আর কামিন্সকে ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। চা বিরতি পর্যন্ত এই দুজন ১৯৩-এ টেনে আনেন দলকে।

বাংলাদেশ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি টেস্ট খেলেছে। তার তিনটিতে ইনিংস ব্যবধানে হার। এক ম্যাচে লিড নিতে পেরেছিল টাইগাররা।

দ্বিতীয় দিনের সকালে মিরপুরে ফিরে আসে প্রথম দিনের বিকেল। যাকে বলে যেখানে শেষ, সেখান থেকে শুরু। এদিন প্রথম সেশনেও তিনটি উইকেট তুলে নেন মিরাজ, সাকিবরা।

স্মিথকে (8) দিয়ে শুরু করেন মিরাজ। প্রথমদিন বিকেলে ঝড়ের মুখে ব্যাট করতে নেমে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক। দ্বিতীয় দিন সকালেও পরিস্থিতি নিজের করতে যেয়ে নিজেই গরম হতে চেষ্টা করেন। জিততে চান মানসিক যুদ্ধে। দ্বিতীয় ওভারে মিরাজকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে হাঁকাতে যান। বল গ্রিপটার্ন করে উইকেট খেয়ে নেয়!

এরপর তাইজুল ফেরান হ্যান্ডসকম্বকে (৩৩)।  ডিফেন্স করতে যেয়ে পেছনের পায়ে লাগিয়ে আবেদন দেখেই হাঁটা দেন। বল স্কিড করে হাঁটুর নিচে লাগে। তাতেই হ্যান্ডসকম্ব বুঝে নেন রিভিউ নেয়ার দরকার নেই।

লাঞ্চের ঠিক আগে সাকিব ফেরান রেনশকে (৪৫)। অফস্টাম্পের উপরের বল খেলতে যেয়ে কানায় লাগান। বল যায় শর্টস্লিপে দাঁড়ানো সৌম্যর কাছে। সৌম্যর হাত ছুঁয়ে বল সোজা তার মাথার উপর উঠে যায়। তিনি হাঁটুগেড়ে বসা অবস্থায়ই দ্বিতীয় দফায় তালুবন্দি করেন।

শেষদিকে সাকিবের দাপটের মুখে লিড হজম করেই থামতে হয় অতিথিদের।

দিন শেষে ৮৮ রানের লিডে আছে টাইগার্সরা।

Facebook Comments