নিজেদের টাকায় রাস্তা নির্মাণ করল তালেরছেও গ্রামবাসী

কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও কাজ না হওয়ায় নিজেদের টাকাতেই রাস্তা নির্মাণ করল তালেরছেও গ্রামবাসী। এই গ্রামটির অবস্থান কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়। আশে পাশের গ্রামগুলো থেকে শিক্ষা দীক্ষা, অর্থনীতিতে অনেকটাই এগিয়ে তালেরছেও। এখানে দুটো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি আলিম মাদ্রাসা রয়েছে। ১ কিলোমিটার দূরে দিয়ে বয়ে গেছে গৌরিপুর-কচুয়া সড়ক। কিন্তু মাত্র ১ কিলোমিটার সড়ক না থাকায় তালেরছেও বাসীকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে গৌরিপুর-কচুয়া সড়কে উঠতে হয়।

তালেরছেও বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি তালেরছেও-মালাখালা এই ১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক করা। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন মহলে ধর্না দিয়েও কাজ হয় নি। সবাই শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। কাজের কাজ কেউ করেন নি। তাই এবার তালেরছেও গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের জনগণ নিজেদের টাকাতেই এই ১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক তৈরি করছে। প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি তৈরি হচ্ছে। প্রচলিত শ্রমিকের বদলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় খরচ অনেকটাই কমে গেছে।

 

প্রধান প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ও তালেরছেও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, মানুষ স্বেচ্ছায় প্রকল্পে টাকা দিয়েছে তাদের সামর্থ্য থেকে। কারও থেকে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করা হয় নি। এ সড়কটি আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি। এখন থেকে আমরা খুব সহজেই গৌরিপুর-কচুয়া সড়কে উঠতে পারব। তালেরছেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল হাসান বলেন, ৯নং ওয়ার্ডের যুব সমাজের উদ্যোগে সড়কটি তৈরি হচ্ছে। মানুষ স্বতঃফুর্তভাবেই টাকা দিয়েছে। এ সড়কের ফলে আমাদেরকে আর ৫ কিলোমিটার ঘুরতে হবে না। তালেরছেও গ্রামের বাসিন্দা অনলাইন একটিভিস্ট মাসুদ সরকার বলেন সড়ক না থাকায় বর্ষাকালে আসা যাওয়া মিলে প্রতিদিন ৪০ টাকা খরচ করতে হত। অনেকের জন্যই এটা কষ্টসাধ্য হয়ে যেত। এ ছাড়া বর্ষার শুরু ও শেষে নৌকা চলাচল করত না। তাতে অর্ধেক পথ পানিতে ভিজে যেতে হত। এ সড়কের ফলে মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

জানা যায় ১৯৯৮ সালে প্রথম এ সড়কের জন্য বাজেট হয়। কিন্তু অদ্ভুত কারণে তা বাস্তবায়িত হয় নি। সর্বশেষ বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগে সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় আর কারও উপর আস্থা রাখতে নারাজ তালেরছেও বাসী। তাই নিজেরাই টাকা সংগ্রহ করে কাজ শুরু করেছে।

Facebook Comments