পাসের হারে বিপর্যয় পাহাড়ে- শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি প্রধান কারন বলে মনে করছেন শিক্ষক

চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে রাঙামাটিতে। এই জেলায় পাসের হার মাত্র ৪৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সার্বিক ফলাফলে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাঙামাটির শিক্ষাবিদরা।

রোববার প্রকাশিত হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল।

পাসের হারে সবার চেয়ে এগিয়ে শহরে নতুন যাত্রা করা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লেকার্স পাবলিক কলেজ। এই কলেজে পাসের হার ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বরকল উপজেলার রাগিব রাবেয়া কলেজ। ওই প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

অন্যদিকে পুরো জেলায় ১৫টি কলেজ থেকে পাঁচ হাজার ২৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন। এঁদের মধ্যে তিনজন রাঙামাটি সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এবং অন্য একজন লেকার্স পাবলিক কলেজের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে এক হাজার ১৯৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছেন মাত্র ৫৪৩ জন। ওই কলেজে পাসের হার ৪৫.৪৫ শতাংশ।

জেলার আরেক ঐতিহ্যবাহী রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের ফলাফল খুবই হতাশাজনক। এই কলেজের ৭৭৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছেন মাত্র ২৬৬ জন। পাসের হার ৩৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

শহরের আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাঙামাটি পাবলিক কলেজের ফলাফলও খুব একটা আশাজাগানিয়া নয়। ওই কলেজ থেকে ১৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছেন মাত্র ৫৪ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।

লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। ওই কলেজ থেকে ৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৭৮ জন। পাসের হার ৮৩ শতাংশ।

উপজেলা পর্যায়েও হতাশা

জেলা শহরের বাইরের কলেজগুলোর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলার কলেজগুলোর ফলাফলেও সার্বিক হতাশার প্রতিচ্ছবি। লংগদু উপজেলার রাবেতা মডেল কলেজ থেকে ২৭৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছেন ১৮৭ জন, পাসের হার ৬৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। যা উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং রাঙামাটির দুই সরকারি কলেজের চেয়েও ভালো।

অন্যদিকে সম্প্রতি সরকারি হওয়া রাজস্থলী কলেজের ফলাফল জেলার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। এই কলেজ থেকে ২৩১ জন পরীক্ষা দিলেও পাস করেছেন মাত্র ৬৮ জন, পাসের হার ২৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

একই সঙ্গে সরকারি হওয়া নানিয়ারচর কলেজের পাসের হার ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, বাঘাইছড়ির কাচালং কলেজের পাসের হার ৫২ শতাংশ, কাউখালী কলেজের পাসের হার ৩২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, কর্ণফুলী কলেজে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

অন্যদিকে জেলার সবচে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির কাচালং কলেজের ৫৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৮৭ জন, পাসের হার ৫২ শতাংশ। এই উপজেলার আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিজক কলেজ থেকে ৩৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২১৮ জন। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

ফলাফলের সার্বিক চিত্রে ভিন্নমত পাওয়া গেছে অধ্যক্ষদের কাছ থেকেও। রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর আহমেদ ফলাফলে সন্তুষ্টির কথা জানালেও, অসন্তুষ্টি জানিয়েছেন রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজ ও পাবলিক কলেজের দুই অধ্যক্ষ।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর আহমেদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাসের হারের সঙ্গে তুলনা করলে আমাদের ফলাফল খুব একটা খারাপ হয়নি, তবে আরো ভালো হতে পারত।’

রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হক খন্দকার নিজ কলেজের ছাত্রীদের ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি খুবই অসন্তুষ্ট, তবে চেষ্টা করব আগামীতে ভালো করার।’

রাঙামাটি পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ তাছাদ্দিক হোসেন কবির বলেছেন, ‘আমার কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুপস্থিতিই এই ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।’

 

 

Facebook Comments