ব্যাটিং নিয়ে চিন্তায় মিরাজ

মেহেদী হাসান মিরাজ খুলনায় ছুটি কাটিয়ে মিরপুর বিসিবি একাডেমি ভবনে ফিরেছেন কাল সকালে। বাড়ি থেকে ঘুরে আসার পর মন যতটা ফুরফুরে থাকার কথা, সেটা দেখা গেল না। বরং মুখে চিন্তার ছাপ। চিন্তাটা যে ব্যাটিং নিয়ে, লুকাননি মিরাজ।


অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে যাঁকে দেখা গেছে দুর্দান্ত অলরাউন্ডার হিসেবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই মিরাজ যেন শুধুই একজন বোলার। গত অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তিনি জাদু দেখিয়েছেন শুধু বোলিংয়ে। ২ টেস্টে ১৯ উইকেট নিয়ে সিরিজ-সেরাও হয়েছেন। তবে রান করেছেন মাত্র ৫। নিউজিল্যান্ডের পেস-সহায়ক কন্ডিশনেও তাঁর বোলিং খুব একটা খারাপ হয়নি। কিন্তু ব্যাটিংটা হয়েছে বাজে। ২ টেস্টে করেছেন ১৫ রান। বোলিং নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও ব্যাটসম্যান মিরাজকে তাই খুঁজছেন সবাই। সমস্যাটা কোথায়, উত্তর খুঁজছেন মিরাজ নিজেও, ‘ছন্দটা ঠিক ধরতে পারছি না। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে যেভাবে খেলেছি, এখনো সেভাবেই খেলছি। তবু কেন যেন তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যাচ্ছি।’
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই মিরাজের ব্যাটিং দেখছেন নাজমুল আবেদীন। ব্যাটসম্যান মিরাজের ব্যর্থতার কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার, ‘ও খুব বেশি তাড়াহুড়ো করেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটেই তাকে দেখেছি, খুব বিজি ব্যাটসম্যান। উইকেটে গিয়েই কিছু একটা করে ফেলতে চায়। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে অতটা সমস্যায় পড়েনি, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পড়েছে। একটা ম্যাচ খারাপ হওয়ার পর ভেবেছে পরেরটিতে ঠিক হয়ে যাবে। এভাবে প্রতিটিতে ব্যর্থ হওয়ার পর চাপ অনুভব করেছে। এখান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে বুঝতে পারেনি।’ মিরাজের টেকনিকেও কিছু গলদ দেখছেন নাজমুল, ‘হার্ড হিট না করে কখনো কখনো আলতোভাবে খেললে বেশি কাজে লাগত। এটা নিয়ে সে আরও কাজ করতে পারে।’
ব্যাটিংয়ে সমস্যা নিয়ে মিরাজ নিয়মিত কথা বলেন তাঁর শৈশবের কোচ আল মাহমুদের সঙ্গে। আল মাহমুদের কথায় অনেকটা নাজমুলেরই প্রতিধ্বনি, ‘শুরুতে সংযম দেখিয়ে উইকেটে থাকার দরকার ছিল তার। মনে হয় সে ভেবেছে টেস্টে ভুল করলেও পার পাওয়া যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের দুর্বল দিকগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে ফেলে প্রতিপক্ষের বোলাররা।’
ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত হলেও মিরাজ অবশ্য হতাশ হচ্ছেন না। জাতীয় দলেও নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে প্রমাণ করতে চান তিনি, ‘দলে আমাকে সবাই অলরাউন্ডার হিসেবেই দেখে। ব্যাটিং নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। আরও বেশি পরিশ্রম করলে ঠিক হয়ে যাবে আশা করি।’
আল মাহমুদ মনে করেন, মিরাজের এই মানসিকতা তাঁর বড় শক্তির দিক, ‘ওর ধৈর্য আরও বাড়াতে হবে। উইকেটে সময় নিতে হবে। তবে তার ইতিবাচক দিক, মানসিকভাবে সে অনেক শক্ত। সহজেই হাল ছাড়ে না। ভালো করতে পারছে না কিন্তু সে আশাবাদী দ্রুত ফিরবে।’

Facebook Comments
,