মানসিক ঝুঁকিতে রয়েছে এই সময়ের ছেলে মেয়েরা

১৯৯৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যারা জন্মগ্রহণ করেছে তারা আগের প্রজন্মের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু ইন্টারনেটযুক্ত স্মার্টফোন আসক্তিতে মানসিকভাবে তারা ঝুঁকিতে থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে এক নিবন্ধে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘দি আটলান্টিকে’ সম্প্রতি স্যান দিয়াগো স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জাঁ তুয়েঁগের এক নিবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওই অধ্যাপক ১৯৯৫-২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া ছেলেমেয়েদের ‘আইজেন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ওই সময়ের মধ্যে জন্ম নেয়া কিশোর এবং তরুণদের বেশিরভাগ সময় বাসায়, ক্যাম্পাসে নয়তো খাবার খেতে কোনো কফি ও ফুডশপে দিন কাটছে। তাদের যোগাযোগ ও বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেটযুক্ত স্মার্টফোন।  এখনকার তরুণ-কিশোররা বন্ধুদের সঙ্গে আগেকার প্রজন্মের তরুণদের মতো বন্ধুত্বের গভীরে যেতে পারছে না। একে অন্যের চোখে চোখ রেখে মুখোমুখি আড্ডা আর কথোপকথন হয় না বলেই তারা একে অন্যের গভীরে যেতে পারে না। ফলে প্রয়োজনীয় সামাজিক সহযোগিতাটাও সময়মতো আদায় করে নিতে পারছে না।

নিবন্ধে তিনি বলেন, ‘আইজেনদের সম্পর্কে বলা হয় যে, মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে তারা কয়েক দশকের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’ এজন্য তিনি দায়ী করেছেন ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন আসক্তিকে।

এখনকার তরুণ-কিশোররা মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জটিলতায় ভূগে থাকে প্রায়ই। ফলে এদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বেশি। এছাড়া আত্মহত্যা নিয়ে ভাবা বা এর চেষ্টা করার প্রবণতাও বেশ আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছেন নিবন্ধে।

মার্কিন গবেষণা সংস্থা পিউ সেন্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন তরুণদের মধ্যে একাকিত্বের ধারণাটা সবচেয়ে বেশি প্রবল হয়ে উঠতে শুরু করে ২০১২ সালের দিকে। ওই সময়ই যুক্তরাষ্ট্রে সেলফোনের প্রসার ঘটে সবচেয়ে বেশি। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোরও সবচেয়ে বেশি প্রসার হয় ওই সময়ই।

বাংলাদেশেও স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে এবং শিশু-কিশোররা মারাত্মক আসক্তির মধ্যে বেড়ে উঠছে বলে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে দেখা যাচ্ছে।

Facebook Comments