মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুই আসামির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

খুলনায় পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু রাকিব হত্যা করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুই আসামি মো. শরীফ ও মিন্টুর দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পূর্ণ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মোহম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সই করা মোট ৬৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি আজ দুপুর থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

গত ৪ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামিদের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়।

এ মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল ও অ্যাডভোকেট এস এম মুবিনুল ইসলাম।

রায়ে আদালত বলেন, আসামি শরীফ পায়ুপথে বাতাস ঢোকানোর পর নিহত রাকিবকে খুলনার চারটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এমনকি আসামি মো. শরীফ নিজের শরীরের রক্ত দেয় শিশু রাকিবকে। যদিও রাকিবের কোনো দোষ ছিল না। তবু তাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে যায়নি। বিবেকের বিবেচনায় দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হলো।

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি এ মামলার পেপারবুক পাঠের মধ্য দিয়ে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমতির জন্য আবেদন) শুনানি শুরু হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট খুলনার টুটপাড়া কবরস্থানের পাশে শরীফ মোটরসে মোটরসাইকেলের হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেসর মেশিন দিয়ে শিশু রাকিবের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ওই গ্যারেজের মালিক মো. শরীফ, তাঁর সহযোগী মিন্টু ও শরীফের মা বিউটি বেগমকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনার পরের দিন তিনজনের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। অভিযুক্ত তিনজনই ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর পরই দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের চার মাসের মধ্যেই খুলনার দায়রা আদালত ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর  আসামি শরীফসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পরে মৃতুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা রায় বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। সে সময় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে পাঠানো হয়।

Facebook Comments
,