শহরের আর গ্রামের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই, বলেছেন অর্থমন্ত্রী

দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকাই এখন উন্নত বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, এখন গ্রাম ও শহরের মধ্যে খুব বেশি তফাৎ নেই। সবখানেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ২০২৪ সালের মধ্যেই দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।

আজ শনিবার বিকেলে সিলেটের মেন্দিবাগে বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সীমান্তিক-এর ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন মোটামুটিভাবে গ্রাম এবং শহরের মধ্যে সে রকম কোনো বড় তফাৎ নেই। শহরে যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে গ্রামের প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে সে সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। মোটামুটিভাবে আমরা বলতে পারি- দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকা এখন উন্নত, ডেভেলপ এরিয়া। এটা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না যদি না আমরা আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম শহরের বাইরে গ্রামে সেটা বিস্তৃত করতে না পারতাম। কতগুলো মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয় রয়েছে, সেগুলো প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ পরবর্তী স্টেজে যাওয়া ৬০ পারসেন্ট থেকে সেটাকে ১০০ পারসেন্টে উন্নীত করা সেটা আমাদের জন্য খুব একটা দুরূহ নয়। আমার মনে হয় আমরা ২০২৪ সালের মধ্যেই সেই অবস্থায় পৌঁছাতে পারব।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে দরিদ্রতা দূর করার টার্গেট হলেও ২০২৪ সালের মধ্যেই দেশ দরিদ্রমুক্ত হবে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে সরকার। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে মানুষের দ্বোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন চিকিৎসার অভাবে বাংলাদেশের মানুষকে ভোগান্তির শিকার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এনজিও গোষ্ঠীর প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এনজিও সংস্থাগুলোর বিকাশ খুব বেশি। বাংলাদেশে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এনজিও কার্যক্রম রয়েছে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এনজিও সংস্থাগুলোর এই ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নার্সিং-সেবা বিস্তৃত হচ্ছে। বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় এটা আরো তরান্বিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের লোকজন এ সেবায় কাজ করছে। তাই, নার্সিং কলেজ বাড়ানো ও সেবা আরো বিস্তৃত করার দরকার রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক স্বাস্থ্য, পরিবার ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা, বিএমআরসির চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ মুদাচ্ছের আলী। এ ছাড়া সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত এ কে আবদুল মোমেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সীমান্তিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা ড. আহমদ আল কবির অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এর আগে সকাল ১০টায় সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়ে বিনোদিনী হাসপাতাল থেকে মাছিমপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির কমপ্লেক্স পর্যন্ত র‍্যালির মাধ্যমে শুরু হয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার। বিকেলে একই স্থানে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Facebook Comments