সেহরি আর ইফতারে সঠিক পুষ্টি

পবিত্র রমজান মাস।

সারা দিন রোজা রেখে ইফতারের সময় হলে পরিবারের সব সদস্য মিলে একসঙ্গে খেতে বসবেন; আয়োজনটাই অন্য রকম! তবে এই মাসে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও জরুরি। অনেকেই ইফতারে প্রচুর খাবার খেয়ে থাকেন। সেহিরতে আবার নিয়ম করে খান না কেউ কেউ। শারীরিক নানা সমস্যাও থাকতে পারে কারও। এসব মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নেওয়া যাক।

l বাইরে তেলে ভাজা খাবার খাওয়া ঠিক হবে না একদমই। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, যেমন চিংড়ি ভাজা, কাবাব, তেহারি, এসব ইফতারের সময় খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

l বাসায় তৈরি যেকোনো খাবার খাওয়া যাবে। সঙ্গে ফলের রস, শরবত ও পানীয়জাতীয় যেকোনো খাবার খাওয়া যাবে চাহিদামতো।

l সেহিরতে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত, গুরুপাক খাবার না খেয়ে স্বাভাবিক রান্না করা খাবার খেতে হবে।

l কোমল পানীয়, কৃত্রিম ফলের রস ও সোডাজাতীয় পানীয় না খাওয়াই ভালো। এতে অ্যাসিডিটি ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

l ইফতারের পর রাতের খাবার অনেকেই বাদ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ডায়াবেটিস এবং রক্তে চর্বি বেশি থাকলেও এ সময়ের খাবার বাদ দেওয়া যাবে না; বরং ইফতারি কিছুটা কম খেয়ে রাতেও অল্প পরিমাণে খেতে হবে।

l অনেকে সেহির না খেয়েই বা খুব কম খেয়ে রোজা রাখেন। কিন্তু এটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে শরীরে অপুষ্টিজনিত সমস্যা, দুর্বলতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

l ভোর রাতে তুলনামূলক বেশি খাবার খান, যাতে করে এই খাবার সারা দিন ধরে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম হেলাল উদ্দীন -জানান, যাঁদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাঁরা তেলে ভাজা খাবার একদমই খেতে পারবেন না, এমন কিন্তু নয়। কম তেলে ভাজা বুট বা ছোলামাখা খেতে পারেন, তবে সেটা ঘরে তৈরি হতে হবে। অথবা চিড়া-কলা-দুধ দিয়ে ইফতারিটা সারতে পারেন। যাঁদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য এ খাবারই হবে সবচেয়ে ভালো। ভরপেট না খেয়ে অল্প করে বারবার খান।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ, শামছুন্নাহার নাহিদ বলেন, রমজান মাসে সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হলো অল্প তেল-মসলায় তৈরি খাবার। সেই সঙ্গে নানা রকম তরল খাবারও রাখুন খাদ্যতালিকায়। এ ছাড়া দই, চিড়া, দুধ, কলা, সুজি, সেমাই, ফিরনি, সুপ, লাচ্ছি, ঘরে তৈরি বোরহানি—এ-জাতীয় খাবার খাওয়ায় কোনো বিধিনিষেধ নেই। বরং এই খাবারগুলো দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার সময়ে শরীরে শক্তি জোগাবে এবং পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করবে।

একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের জন্য নমুনা খাদ্যতালিকাও দিলেন শামছুন্নাহার নাহিদ।

ইফতারি

চিনি কিংবা গুড়ের শরবত এক গ্লাস। মিষ্টি খাবার যেকোনো এক পদ। মিষ্টি বা টকফল একটি কিংবা দুটি। ঘরে তৈরি পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, কাবাব ইত্যাদি নানা পদ থেকে এক বা দুটি করে নেওয়া যাবে। বুট, মুড়ি অথবা চিড়া, দই বা দুধের তৈরি খাবার।

রাতের খাবার

রুটি, মাছ অথবা মাংস। শাক, সবজি, সালাদ ও লেবু।

সেহরি

রুটি। মাছ অথবা মাংস। সবজি, ডাল ও লেবু। মিষ্টি, দুধে তৈরি খাবার বা দুধ।

Facebook Comments