স্বামীর রক্ত পান করতেন নারী!

তন্ত্রসাধনার অংশ হিসেবে স্বামীর রক্ত পান করতেন এই নারী!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন তার দেশের মানুষকে। অথচ সেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে নানা কুসংস্কার। ভারতীয় অনেক গ্রামে এখনো চলে পিশাচ, তন্ত্রসাধনার মতো বিষয়গুলো নিয়ে অনেক ধরনের বাজে কাজ। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে।

জেলার সদাইপুর থানার এক নারীর বিরুদ্ধে স্বামীর রক্তপানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে আছে পুরো এলাকা। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অভিজিৎ বাগদির (২২) স্ত্রী সাবিত্রী বাগদি (১৮) সাধনার নামে নিয়মিত স্বামীর বুকের উপর উঠে বসে রক্তপান করতো। তাদের ঘরে নাকি এদিকে-ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মানুষের মাথার খুলি আর হাড়গোড়!

এমনকি সাবিত্রীকে প্রতিবেশীরা নগ্ন অবস্থায় বাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে গভীর রাতে। ভয়ে, অন্ধবিশ্বাসে স্থানীয়রা খুব একটা ওই ‘অভিশপ্ত’ বাড়ির কাছেও যেতেন না। অভিজিৎ সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি হন। তার মা ছবি বাগদির অভিযোগ, পুত্রবধূর তন্ত্রসাধনার কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে তার ছেলে। নিয়মিত তার রক্তপান করতো সাবিত্রী।

শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে হাসপাতাল থেকে খবর আসে, অভিজিৎ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এই খবর তার গ্রামে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। দলবেঁধে তারা অভিযুক্ত ও তার বাবা-মা ও দুই ভাইয়ের উপর চড়াও হয়। স্থানীয় কয়েকজনের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচেন সাবিত্রী।

পুলিশ অভিযুক্তদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিজিতের মৃতদেহ গ্রামে এসে পৌঁছলেও শোকপ্রকাশ করতে দেখা যায়নি তার স্ত্রীকে। সেই সময় ঘরের ভিতর থেকে খুলি আর কাটা আঙুল নিয়ে এসেও কিছু মন্ত্র পড়তে শুরু করেন তিনি।

মাত্র দুই বছর আগেই অভিজিৎ ও সাবিত্রীর বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। স্থানীয়দের জানান, প্রথম থেকেই বাপের বাড়ির সদস্যদের কথায় পৈশাচিক সাধনায় মেতে থাকতেন সাবিত্রী। অস্বাভাবিক আচরণ করতেন তিনি। স্বামীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিজিতের বুকের উপর উঠে বসে রক্তপান করার কথাও জানা গেছে।

পিশাচসিদ্ধ কোনো তান্ত্রিক বা কাপালিকের কথায় অভিযুক্ত এমনটা করত বলে মনে করেন গ্রামের অন্য বাসিন্দারা।

 

Facebook Comments