হেলমেট ছাড়া চালু হবে না স্মাট বাইক।

হেলমেট ছাড়া চালু হবে না স্মাট বাইক। আবিস্কার করেছেন মোঃ মতিউর রহমান রিয়াদ।কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি বিভাগের অষ্টম  সেমিষ্টারের ছাত্র।

রিযাদ তার সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে জানালেন,পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখেন সড়ক দূর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে এক তরুন মোটর সাইকেল আরোহীর প্রান যায় সেই দুর্ঘটনায়।এই দৃশ্য দেখে সে গভীর চিন্তা শুরু করে।সেই চিন্তা তার  মাথায় সব সময় ঘোরপাক খায়।

কিভাবে এমন দুর্ঘটনা থেকে মানুষের জীবন বাঁচানো যায় সরকারি নিয়মে মোটর সাইকেল চালকের মাথায় হেলমেট পরার নিয়ম থাকলেও অনেকেই এই নিয়ম মানেন না।

তিনি ভাবতে থাকেন কীভাবে চালককে হেলমেট পরাতে বাধ্য করা যায়। এসএসসি পাশ করার পর ভর্তি হন কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি বিভাগে। এর পর থেকেই তিনি বিভিন্ন আবিস্কারে নেমে পড়েন। ২০১৬ সালে ৩৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় ‘উইন্ডমিলের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন’ প্রকল্পে জাতীয় পুরুস্কার পায়।

এ বছর ৩৮ তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় সোলারের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র উদ্ভাবন করে রংপুর বিভাগে প্রথম হন। এছাড়া ২০১৭ সালে ওয়াল্ড ব্যাংক ও কানাডা পরিচালিত স্কিলস কম্পিউটিশনতে ইউন্সিটিউটে লেভেল ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এই সাফল্যে পর থেমে নেই এই তরুনের উদ্ভাবন। 

সম্প্রতি তিনি মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় চালকের মারাত্মক ক্ষতি রোধে উদ্ভাবন করেন ‘‘ স্মাট বাইক প্রকল্প”। কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিউটে ভর্তির পর তাঁর এই স্বপ্ন পুরুন হতে শুরু করে।

মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষক আক্তারুজ্জামান ও সহপাঠী মিঠুন সরকারের সহায়তায় গবেষনার কাজ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ছয় মাস গবেষণা করে তিনি উদ্ভাবন করেন, হেলমেট পরা ছাড়া মোটর সাইকেল চালু হবে না।

এতে অন্যান্য যন্ত্রাংশ স্বাভাবিকভাবেই কাজ করবে। সঙ্গে অতিরিক্ত দুটি ডিভাইস যুক্ত করা হবে, যার একটি মোটর সাইকেলে সংয্ক্তু হবে, অন্যটি যুক্ত হবে হেলমেটে। হেলমেটে অতিরিক্ত ব্যাটারির প্রয়োজন হবে না। সোলার প্যানেলের সাহায্যে সূর্যের আলোয় বিদ্যূৎ উৎপাদন হবে। এই বিদ্যুতে চলবে হেলমেটের ডিভাইস।

এখানে মোটর সাইকেলে স্বাভাবিকভাবে চাবির সাহায্যে খোলার পর চালককে হেলমেট পরার নির্দেশ দেবে। হেলমেট মাথায় না পড়লে মোটর সাইকেল চালূ হবে না। এখানে আরও একটি সেন্সর কাজ করবে।

চালক যদি মাদকাসক্ত হন বা অ্যালকোহল পান করেন, তাহলে সেন্সর অ্যালকোহলের ঘ্রানে মোটর সাইকেল চালু হতে সহায়তা করবে না। আবার মোটর সাইকেল চালূর পর কেউ যদি হেলমেট খুলে ফেলেন, তখন মোটর সাইকেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

দেশে এই স্মাট মোটর সাইকেল ব্যবস্থা চালু করলে অনেকেই নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারবেন।

মতিউর রহমান রিয়াত বলেন, এই স্মাট বাইক চালকের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমাবে। এই প্রকল্প দেশ ব্যাপী চালু করতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার ও মোটর সাইকেল কোম্পানীগুলো এগিয়ে এলে খুব দ্রুত স্মাট বাইক প্রকল্প চালূ করা সম্ভব।

কারন এই স্মাট বাইক চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রদান করবে, মোটর সাইকেল চুরি রোধ করবে, নেশাগ্রস্থদের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে ও দেশের আইন মান্য করতে সহযোগিতা  করবে। স্মাট বাইক প্রকল্পের পাশাপাশি উইন্ডমিলের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে কাজ করেন রিয়াদ ।

পরিবেশের কোন ক্ষতি না করে এই প্রকল্প তৈরী করা হয়। পাহাড়ী ও সমুদ্রতীরবর্তী খোলা এলাকায় এই প্রকল্প স্থাপন করতে হবে। এতে প্রকৃতি থেকে বাতাস নিয়ে চাপ বৃদ্ধি করবে। বাতাসের সাহায্যে টারবাইনের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এতে খরচ খুব কম হবে।

শুধু প্রথমবারের মত মেশিন কেনার জন্য খরচ হবে। এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এই বিদ্যুতে বাসাবাড়ির সব ইলেকট্রনিক পণ্য চলবে।

মতিউর রহমান রিয়াত স্বপ্ন দেখছেন তার আবিস্কৃত এই প্রকল্পে সরকারি ও বে-সরকারি সংস্থা তাকে সুযোগ করে দিলে সে ভবিষ্যতে আরো বিভিন্ন বিষয়ে গবেষনা করে দেশের জন্য কাজ করে যাবেন।

 

Facebook Comments