আলাস্কায় ট্রাম্প–পুতিন বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

০ মতামত 59 views

আগামী ১৫ আগস্ট আলাস্কায় মুখোমুখি হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত এই বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বিশ্ব রাজনীতির ধারাও পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যত নির্ধারণে আলোচনার গুরুত্ব অনেক বেশি।

দুই দেশের প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত থাকা অনেক প্রশ্ন এই আলোচনার টেবিলে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘বিগ মিটিং’ আগামী দিনের কূটনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্রাম্পের জন্য এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক এক মাইলফলক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তিনি দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুরুতে রাশিয়ার প্রতি কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি না হওয়ায় কঠোর শুল্ক আর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মস্কোর ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে আলাস্কায় বৈঠক ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পুতিনের কাছে ইউক্রেন যুদ্ধ সামরিক ও রাজনৈতিক মিশন। পূর্ব ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই তার প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ন্যাটোর বিস্তার রোধ করাও তার অগ্রাধিকার। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকে ‘শতাব্দীর বৃহত্তম ভূরাজনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পুতিন। তিনি চান রাশিয়ার পুরনো প্রভাব ফিরিয়ে আনতে এবং আলোচনায় অধিকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে দাবি করবেন।

তবে বৈঠক থেকে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুপস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তাদের ভূখণ্ড ছাড়তে একদমই রাজি নন, যা কূটনৈতিক সমঝোতার পথ কঠিন করে তুলেছে।

আলাস্কা কেন এই বৈঠকের স্থান নির্বাচিত হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। একসময় রাশিয়ার অংশ ছিল এই অঞ্চল, যা ১৮৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি হয়। তাই আলাস্কায় বৈঠক আয়োজন দুই দেশের ইতিহাস ও সম্পর্কের প্রতীকী অর্থ বহন করে। পাশাপাশি এটি কম জনবসতিপূর্ণ, নিরাপদ এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হওয়ায় শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ।

Leave a Comment