‘গাজায় ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলে লাইসেন্স নয়’—বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলে সে জাতীয় কোনো সামগ্রী ইসরায়েলে রপ্তানি না করার নীতিতে অটল রয়েছে কানাডা। শনিবার (২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এ ধরনের কোনো নতুন লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে।
আনাদোলু এজেন্সির বরাতে রোববার (৩ আগস্ট) বিষয়টি উঠে আসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
আনন্দ বলেন, “গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে— এমন সামরিক পণ্যের লাইসেন্স ২০২৪ সালের শুরুতেই স্থগিত করা হয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত এখনও বলবৎ আছে। নতুন কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কানাডা থেকে ইসরায়েলে এখনও অস্ত্র রপ্তানি হচ্ছে। এর জবাবে কানাডীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেদনের অনেক তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যেগুলোকে ‘গুলি’ বলা হয়েছে, সেগুলো আসলে পেইন্টবল জাতীয়। এ ধরনের সরঞ্জামে এমন প্রযুক্তিও ছিল, যা আগ্নেয়াস্ত্রকে গোলাবারুদ ব্যবহারে অকার্যকর করে তোলে। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য নয়। আর কেউ যদি তা ব্যবহার করতেও চায়, তাহলে তাকে লাইসেন্স নিতে হবে— এবং সে লাইসেন্স কখনোই অনুমোদন করা হতো না।”
তিনি আরও নিশ্চিত করেন, “লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার আগে থেকেই কোনো কানাডীয় প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলে মর্টার সরবরাহ করেনি।”
আইন ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা
আনন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি লাইসেন্সবিহীনভাবে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে জরিমানা, সামগ্রী জব্দ এবং ফৌজদারি মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমরা কখনোই চাই না— কানাডায় তৈরি কোনো অস্ত্র গাজা সংঘাতে ব্যবহৃত হোক।”