নতুন দেশ ডেস্ক: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। খসড়ায় রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। আইনসভার নিম্নকক্ষে অভিশংসন প্রস্তাবটি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে এবং উচ্চকক্ষে শুনানির মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’ এই প্রস্তাবে ২৮টি দল ও জোট একমত হয়েছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো জুলাই সনদের খসড়া থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত দণ্ডের মার্জনা, বিরাম মঞ্জুর, দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে এবং এটি আইন দ্বারা নির্ধারিত নীতি ও পদ্ধতি অনুসারে প্রয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে এ সংক্রান্ত বিধান রাখা হবে যে, আবেদন বিবেচনার আগে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।’ এই প্রস্তাবে ২৯টি দল ও জোট একমত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘সংবিধানে যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হবেন আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সময় কেউ কোনো রাষ্ট্রীয়, সরকারি বা রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারবেন না।’
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে নিম্নলিখিত পদে নিয়োগ দিতে পারবেন—
১. জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য
২. তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য
৩. বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য
৪. আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য
৫. বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য
এই প্রস্তাবে ৩১টি দল ও জোট একমত হয়েছে। তবে বিএনপি, এনডিএম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ১২ দলীয় জোট ও এলডিপি এই প্রস্তাবের ৫ ও ৬ নম্বর ক্রমিক বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট জানিয়েছে।