“যুদ্ধের সময়ও আহতদের চিকিৎসা বন্ধ হয় না—এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সত্য। কিন্তু বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের সময় তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।”—এ কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘জুলাই স্মরণ’ অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। আহত আন্দোলনকারীদের সেবা দেওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান জানাতে এ আয়োজন করা হয়।
ড. ইউনূস বলেন, “আন্দোলনের সময় চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হুমকি সত্ত্বেও যারা আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন, তারাই এই জুলাইয়ের সত্যিকারের নায়ক। ফ্যাসিস্ট সরকার একদিকে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে, অন্যদিকে নিশ্চিত করেছে যাতে কোনো হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা না হয়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। অনেক মেডিকেলে হামলা হয়েছে, চিকিৎসক ও নার্সদের দেওয়া হয়েছে হুমকি। এসব সত্ত্বেও যারা সেবা দিয়েছেন, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “চিকিৎসকদের এই অবদান কোনোদিন ভুলবার নয়। রক্ত সংকটের মধ্যেও তারা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রক্ত ও ওষুধ সংগ্রহ করেছেন, রোগীর পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবস্থাপত্রে অন্য নাম লিখেছেন। অনেকে প্রাইভেট চিকিৎসক হয়েও সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “আপনারা শুধু চিকিৎসা দেননি, বরং সাহস, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। পরিবারসহ নিজেরাও ছিলেন ঝুঁকিতে, কিন্তু পাহাড়সম বাধা ডিঙিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে আন্দোলনকালে আহতদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ‘জুলাইয়ের নায়ক’ আখ্যায় ভূষিত করা হয়।