রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধি ২০২৫ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল মো. সানাউল্লাহ জানান, আচরণবিধিতে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ব্যবহার করা যাবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সানাউল্লাহ জানান, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আরপিওর ৯১ (ঙ) ধারা অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যেমন সার্কিট হাউস, ডাকবাংলো, রেস্ট হাউস ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
প্রচারণায় পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর ব্যবহার এবং টি-শার্ট, জ্যাকেটের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে। অস্ত্রের সংজ্ঞায় দেশীয় অস্ত্রকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিধি-নিষেধ নির্ধারণ করা হয়েছে। শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রচারণার সময় তিন সপ্তাহই বহাল থাকছে।
কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বা সদস্য প্রার্থী হলে, প্রার্থিতা লাভের পূর্বেই তাকে পদত্যাগ করতে হবে। সরকারি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সকল প্রার্থীকে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ইশতেহার ঘোষণার বিধান করা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনে জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা করা হয়েছে।