বগুড়ার শেরপুরে পাকা সড়কে খানা খন্দের খড়গ!

০ মতামত 32 views

সানোয়ার হোসেন, শেরপুর (বগুড়া):

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে যাতায়াতের অন্যতম রাস্তা শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের ৬টি পয়েন্টে খানাখন্দ আর বৃষ্টির পানি মিলেমিশে চলাচল ব্যবস্থাকে নাজেহাল করে তুলেছে। চলাচলের সুবিধার তুলনায় সড়কটি এখন মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে বহুগুণ। এক সময় সড়কটিতে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করত। ভাঙাচোরা আর কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটিতে এখন চলাই দায়। খানাখন্দে পড়ে যখন তখন আটকে যায় পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন।

জানা যায়, শেরপুর উপজেলা শহরে কেনাকাটা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে বিভিন্ন সরকারি কাজের জন্য এ সড়ক দিয়ে যেতে হয় ১০ গ্রামের মানুষদের। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে চলাচল করতে নারী, বয়স্ক ও শিশুদের বেশ বেগ পেতে হয়। ভাঙাচোরা সড়কে চলতে গিয়ে গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত ঝাঁকুনিতে কোমর ব্যথা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়ির যন্ত্রাংশ। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে খানাখন্দে জমা থাকা পানি ছিটকে যাত্রীদের জামা-কাপড় ভিজে যাচ্ছে। নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শাহবন্দেগী, মির্জাপুর ও ভবানীপুর ইউনিয়নের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন। এছাড়াও, এই ৪ কিলোমিটার সড়কের দুধারে ২০ থেকে ২৫টি সেমি অটোরাইস মিল, বাছাই মিল, চাতাল ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে ধান-চাল পরিবহন করতে অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে এসব ব্যবসায়ীর। খানাখন্দের কারণে সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। এছাড়াও মাঝে মাঝে বড় গর্তে পড়ে বিকল হচ্ছে অসংখ্য যানবাহন।

এ সড়কের কোল ঘেঁষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও মক্তব রয়েছে। বেহাল সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানবিমুখ হয়ে পড়ছে। খানাখন্দে ভরা সড়কের কারণে যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া সম্ভব হয় না বলেও জানান শিক্ষার্থীরা। ব্যবসায়ী, রোগী, বৃদ্ধ ও শিশু শিক্ষার্থীদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিয়ে এ সড়কে চলাই দায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরুয়া বটতলা থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত মহাসড়কের ওপর চাপ কমানো। শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুর সড়কের কারণে মানুষ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেলেও এ সড়কের খানাখন্দ এখন তাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিক বলেন, ‘সড়কটি নষ্ট হওয়ার কারণে ধান-চাল পরিবহনে প্রায়ই বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। ভাঙা সড়কের কারণে ট্রাক ড্রাইভাররা অতিরিক্ত ভাড়া চেয়ে বসে। বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমে থাকায় বোঝা মুশকিল হয়ে যায় কতটুকু গর্ত রয়েছে। গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় গাড়ি মেরামতে ক্ষতিপূরণও গুনতে হয়।’

শেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে ইজিবাইকে করে কলেজে যাতায়াত করতে ভয় লাগে। কারণ, ভাঙাচোরা সড়কে ইজিবাইক এমনভাবে হেলে-দুলে চলে, যেন কাত হয়ে পড়ে যাবে। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।’

পথচারী ভবানীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিক আহমেদ বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী প্রত্যেকটি মানুষকে কষ্ট করতে হচ্ছে। সড়কটি খারাপ থাকার কারণে সিএনজি ও অটোর ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। চলাচলের সময় মাঝে মাঝেই গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো রিকশা, অটো বা সিএনজি উল্টে যায়। এ সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ সড়কের খারাপ অবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুরের এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বর্ষার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়ে ঠিকাদার নির্বাচিত হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই সড়কটি চলাচল উপযোগী করতে মেরামতের কাজ শুরু হবে।’

Leave a Comment