উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে পদ্মা নদীর পানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৬টি মাদরাসা—মোট ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে পাঁচটি এবং আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১৪টি প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। এ ছাড়া দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসাও প্লাবিত হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার দুলর্ভপুর, পাঁকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও প্লাবিত হয়েছে। দুলর্ভপুরে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পাঁচটি মাদরাসা, পাঁকায় সাতটি প্রাথমিক ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং উজিরপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে।
নারায়ণপুর মাহমুদা মতিউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. হামিদা খাতুন বলেন, “আমাদের স্কুলে ৭৯২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ক্লাস হলেও রবিবার থেকে শ্রেণিকক্ষে পানি ওঠায় তিনদিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।”
শিংনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, “বিদ্যালয়ের চারপাশেই পানি। অভিভাবকরা ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। ফলে সোমবার থেকে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী জানান, পদ্মা নদীর পানি বাড়ার ফলে নিচু এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিকল্প জায়গায় বা উঁচু স্থানে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।