যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ঘোষিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি ওয়ান-টু-ওয়ান আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং এ লক্ষ্যে আগামীকাল (৯ জুলাই) ভোরে ওয়াশিংটনে ইউএসটিআর (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “ওখানে আমাদের বাণিজ্য উপদেষ্টা তিন দিন আগে গেছেন। আজই কমার্স টিম যাচ্ছেন। ইউএসটিআরের সঙ্গে আগামীকাল ভোরে মিটিং হবে। এরপর বোঝা যাবে বিষয়টি কোন পর্যায়ে আছে। কারণ প্রেসিডেন্টের চিঠি দিলেও সেটি চূড়ান্ত নয়, এটি ১৪টি দেশের জন্যই দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আলোচনার মাধ্যমেই।”
আশাবাদী সরকার, ইতিবাচক ইঙ্গিত বৈঠকে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন জানান, “বৈঠকটি মোটামুটি পজিটিভ হবে বলে আমরা আশা করি। এর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ৬ তারিখে একটি প্রাথমিক বৈঠক হয়েছে, সেখান থেকেও ইতিবাচক বার্তা এসেছে।”
ভিয়েতনাম ২৬% কমালো, বাংলাদেশ মাত্র ২% কেন?
ভিয়েতনাম যেখানে শুল্কহার ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পেরেছে, সেখানে বাংলাদেশের মাত্র ২ শতাংশ কমানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুললে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করলে দেখতে হবে, তাদের মার্কেট ডেফিসিট ১২৫ বিলিয়ন ডলার, আর আমাদের মাত্র ৫ বিলিয়ন। ভিয়েতনাম কনসেশন পাওয়ার মতো অবস্থানে ছিল। আমরা যুক্তি দিয়েছি, আমাদের ডেফিসিট কম—সেজন্য ৩৫ শতাংশ শুল্কের যৌক্তিকতা নেই। এই যুক্তিই তুলে ধরা হচ্ছে আলোচনায়।”
তিনি আরও বলেন, “চিঠি দিয়ে দিলেই তো শুল্ক কার্যকর হয় না। যুক্তরাষ্ট্র ওয়ান-টু-ওয়ান নেগোসিয়েশনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের চিঠি পাঠান। বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী উদ্বেগের মধ্যে সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে।