মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

০ মতামত 3 views

রাশিয়ায় বেসামরিক চাকরির প্রতিশ্রুতিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে জড়ানোর অভিযোগ: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিককে রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের বেসামরিক চাকরি (যেমন জ্যানিটর, লন্ড্রি বা অন্যান্য কাজ) দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষায় লেখা কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, যা পরে সামরিক চুক্তি হিসেবে প্রকাশ পায়। এরপর তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে নেওয়া হয়, যেখানে ড্রোন যুদ্ধকৌশল, আহতদের সরিয়ে নেওয়া, ভারী অস্ত্র ব্যবহারসহ মৌলিক যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদেরকে ইউক্রেনের সম্মুখসারিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে (যেমন সামনে এগিয়ে যাওয়া, রসদ বহন, আহত/নিহত সেনাদের দেহ উদ্ধার) বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করলে মারধর, খাবার বন্ধ, ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি বা অন্যান্য নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে।

মূল সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য (এপি-এর সাক্ষাৎকার থেকে):

  • মাকসুদুর রহমান (৩১, লক্ষ্মীপুর): জ্যানিটরের চাকরির প্রতিশ্রুতিতে গিয়েছিলেন। মস্কোতে পৌঁছে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর। সম্মুখসারিতে বাঙ্কার খনন, খাবার সরবরাহ ইত্যাদি করতে বাধ্য। এক রুশ কমান্ডার (অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে) বলেন, “তোমার এজেন্ট তোমাকে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনেছি।” পায়ে আঘাতের পর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ফিরেছেন (প্রায় ৭ মাস পর)।
  • মোহন মিয়াজী (২৯, মুন্সিগঞ্জ): অনলাইনে নন-কমব্যাট ড্রোন ইউনিটের প্রতিশ্রুতি পেয়ে গিয়েছিলেন। ভাষার অসুবিধায় ভুল হলে বেদম মারধর, বেসমেন্টে আটকে রাখা, লাশ উদ্ধারের কাজ। পালাতে সক্ষম হন।
  • অন্যান্য: অন্তত ৩ জন পালিয়ে এসেছেন; ৩ জন নিখোঁজের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে (যেমন আজগর হোসেনের স্ত্রী, সাজ্জাদের বাবা মোহাম্মদ সিরাজ—সাজ্জাদ ড্রোন হামলায় নিহত)। কয়েকজন পরিবার জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন।

প্রমাণাদি: এপি পর্যালোচনা করেছে ভ্রমণ কাগজপত্র, রুশ সামরিক চুক্তি (যেমন Maj. Vladimir Yaltsev-এর স্বাক্ষরিত), চিকিৎসা/পুলিশ রিপোর্ট, যুদ্ধজনিত আঘাতের ছবি, আর্মি ডগ ট্যাগ। বাংলাদেশ পুলিশ একটি ট্রাফিকিং রিং তদন্ত করছে; BRAC-এর অনুসন্ধানে অন্তত ১০ জন নিখোঁজ নিশ্চিত। দুটি রুশ ডেজার্টার সাহায্যকারী গ্রুপও সাক্ষ্য দিয়েছে।

প্রভাবিতের সংখ্যা: স্পষ্ট নয়। পালিয়ে আসা ও নিখোজ পরিবারের ভিত্তিতে অন্তত ১০+ জন নিশ্চিত; ভুক্তভোগীরা বলেছেন শত শত বাংলাদেশিকে যুদ্ধক্ষেত্রে দেখেছেন। বাংলাদেশি তদন্তকারীরা সম্ভাব্য ৪০ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন (অনুমানভিত্তিক)। একই ধরনের অভিযোগ ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও রয়েছে।

সরকারি প্রতিক্রিয়া: রুশ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এবং বাংলাদেশ সরকার—কেউই এপি-এর প্রশ্নের জবাব দেয়নি। বাংলাদেশ পুলিশ ট্রাফিকিং তদন্ত করছে এবং একজন বাংলাদেশি-রুশ নাগরিক মধ্যস্থতাকারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দূতাবাস আহতদের ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে।

অন্যান্য কভারেজ: এই অনুসন্ধান মূলত এপি-এর উপর ভিত্তি করে। বাম/মধ্যপন্থী বা আন্তর্জাতিক মূলধারার আউটলেট যেমন Al Jazeera, ABC News, Washington Post-এ পুনঃপ্রকাশিত/সারাংশ প্রকাশিত হয়েছে। ডানপন্থী/কনজারভেটিভ আউটলেট যেমন Breitbart-এ সংক্ষেপে উল্লেখ আছে (অন্য একটি রাশিয়ান ড্রোন হামলার প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে)। এখনো পর্যন্ত বিস্তারিত কাউন্টার-ন্যারেটিভ বা অস্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

উৎস লিঙ্কসমূহ:

  • মূল এপি অনুসন্ধান: https://apnews.com/article/russia-ukraine-war-bangladesh-migrant-workers-d7df6a8b2ff60b46ce8e3fa3aafaf60e (২৭ জানুয়ারি ২০২৬)
  • Al Jazeera সারাংশ: https://www.aljazeera.com/news/2026/1/27/bangladeshis-seeking-jobs-in-russia-forced-to-join-war-with-ukraine-report
  • Prothom Alo (বাংলায় সারাংশ): https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/2bfd86zuer
  • Breitbart-এ উল্লেখ: https://www.breitbart.com/europe/2026/01/27/two-civilians-killed-23-wounded-in-russian-drone-strikes-on-ukraine/ (প্রসঙ্গিক)

তদন্তমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন: প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগীদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, নথিপত্র ও ছবি দিয়ে সমর্থিত, তবে অফিসিয়াল নিশ্চিতকরণের অভাব রয়েছে। সংখ্যা (নিহত/জড়িত) অনুমানভিত্তিক; কিছু শ্রমিক উচ্চ বেতনের লোভে সচেতনভাবে গেলেও প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি। এটি অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ ও যুদ্ধে বিদেশি রিক্রুটমেন্টের বৃহত্তর ইস্যু তুলে ধরে। আরও স্বাধীন যাচাই ও অফিসিয়াল তদন্ত প্রয়োজন।

এই পুনর্লিখিত সংস্করণ মূলত এপি-এর তথ্যের উপর ভিত্তি করে নিরপেক্ষভাবে তৈরি; মূল প্রতিবেদনের সেনসেশনালিজম এড়ানো হয়েছে এবং অফিসিয়াল নীরবতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Comment