২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি কৌশলগত বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই নিউ মেক্সিকোর আলবুকারকিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি পারমাণবিক অস্ত্রঘাঁটি থেকে একটি সামরিক পরিবহনবিমান উড্ডয়ন করে। এর গন্তব্য ছিল যুক্তরাজ্যের লেকেনহিথ বিমানঘাঁটি।
অস্বাভাবিক উড়ান, প্রকাশিত পরিচয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানটি ‘প্রধান পারমাণবিক পরিবহন ইউনিট’-এর অংশ ছিল এবং সেটি নিজের পরিচয় ও অবস্থান প্রকাশ করেই উড়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ফ্লাইট সাধারণত এমন প্রকাশ্য উড়ান চালায় না, যা এই পরিবহনকে আরও নজরকাড়া করে তোলে।
এছাড়া, বিমানটি কোনো তৃতীয় দেশের আকাশসীমা অতিক্রম না করেই সরাসরি যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়, যা কৌশলগত পরিকল্পনারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত
নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ইউরোপে নিরাপত্তা ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের চলমান টানাপড়েন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক জনাথন উইলক্স বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই মোতায়েন ইউরোপে ন্যাটোর অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। একই সঙ্গে এটি রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত সতর্কবার্তাও বটে।”
যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি স্বীকার করেনি। তবে বিমান চলাচল ও ঘাঁটিতে সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী উন্মুক্ত উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনটা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।