লিভার ভালো রাখতে কোন পানীয়গুলো খাবেন?

০ মতামত 77 views

মানবদেহে লিভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে, রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে এবং হজমে সহায়তা করে। তবে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণ ও অ্যালকোহল সেবনের কারণে লিভারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে সৃষ্টি হতে পারে ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস বা হেপাটাইটিসের মতো রোগ। লিভার সুস্থ রাখতে শুধু ওষুধ নয়, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয় রাখাও কার্যকর।

নিম্নে এমন পাঁচটি পানীয় তুলে ধরা হলো, যেগুলো লিভারের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে:
✅ গ্রিন টি

গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা লিভারের চর্বি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং রক্তপ্রবাহকে স্বাভাবিক রাখে। এতে প্রদাহ কমে ও হজমশক্তি বাড়ে।
পান করার নিয়ম:
১ কাপ গরম পানিতে একটি গ্রিন টি ব্যাগ ৩-৪ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। চাইলে লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
✅ ব্ল্যাক কফি

ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ব্ল্যাক কফি লিভারের চর্বি জমা প্রতিরোধ করে এবং মাইক্রো রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে। নিয়মিত কফি সেবনে ফ্যাটি লিভার ও সিরোসিসের ঝুঁকি কমে।

পান করার নিয়ম:
১ কাপ ফুটন্ত পানিতে ১-২ চা চামচ ইনস্ট্যান্ট কফি মিশিয়ে পান করুন—চিনি না দেওয়াই ভালো।
✅ ব্ল্যাক টি

ব্ল্যাক টিতে থাকা থিয়াফ্লাভিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের ফ্যাটি জমা কমাতে সহায়তা করে এবং রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করে।

পান করার নিয়ম:
১ কাপ পানিতে ১ চা চামচ চা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে ছেঁকে গরম অবস্থায় পান করুন।
✅ বিটরুটের রস

বিটরুটে রয়েছে বিটালাইন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নাইট্রেট, যা লিভারের রক্ত প্রবাহ বাড়ায় এবং কোষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে দেহে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয়, যা লিভারকে সজীব রাখে।

পান করার নিয়ম:
২টি বিটরুট কুচি করে ব্লেন্ড করে নিন। তাতে সামান্য লবণ, গোলমরিচ ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।
✅ ডালিমের জুস

ডালিমে থাকা পুনিকাল্যাজিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের চর্বি প্রক্রিয়াকরণে সাহায্য করে এবং কোষে রক্ত সরবরাহ বাড়ায়।

পান করার নিয়ম:
২টি ডালিমের বীজ ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিন। এক গ্লাস রসে এক চিমটি বিট লবণ মিশিয়ে পান করুন।
🟡 বিশেষ পরামর্শ:

লিভার ভালো রাখতে শুধু পানীয়ই যথেষ্ট নয়—সাথে চাই সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা, এবং নিয়মিত ব্যায়াম। লিভারের সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Leave a Comment