সন্তান দুষ্টুমি করে, পড়তে চায় না—এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবকই রাগে-ক্ষোভে সারাক্ষণ বকাঝকা শুরু করেন। “এটা করো না, ওটা করো না” বলা যেন নিত্য অভ্যাস। কিন্তু মনোবিদরা বলছেন, শাসন দিয়ে নয়, বরং বন্ধুত্ব দিয়ে গড়ে ওঠে সুসন্তান।
আধুনিক প্যারেন্টিংয়ের মতে, শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় গড়া বন্ধুত্ব। সন্তানের বন্ধু হতে চাইলেন? তাহলে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন—
🔶 মনোযোগ দিয়ে শুনুন, মতামত চাপিয়ে দেবেন না
সন্তান কিছু বলতে চাইলে তা গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। তাদের সুবিধা-অসুবিধা, পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিন। নিজের মতামত সবসময় চাপিয়ে দেবেন না। সময় নিয়ে বুঝিয়ে বলুন—যতটা আপনি শেখাবেন, ততটাই সে শিখবে।
🔶 রাগের বদলে ভালোবাসা দিন
শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা কম। তাই তারা হঠাৎ রেগে যায় বা কাঁদে। এ সময় মেজাজ হারিয়ে না গিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরুন। আদর দিন। বুঝিয়ে বলুন। এতে সে বুঝবে—আপনি সবসময় তার পাশে।
🔶 বকাঝকা নয়, বোঝান
প্রতিটি পরিস্থিতিতে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায় না—এটা ধীরে ধীরে সন্তানকে শেখান। সে হয়তো এখন বুঝবে না, কিন্তু স্নেহ-মমতায় বোঝালে একদিন নিজেই সঠিক আচরণ শিখে নেবে।
🔶 তুলনা নয়, প্রশংসা করুন নিজস্ব গুণে
প্রত্যেক শিশুর আলাদা যোগ্যতা ও প্রতিভা আছে। কারও সঙ্গে তুলনা করলে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তাই তাকে তার নিজের মতো গড়ে উঠতে দিন—চালাক, বোকা, পড়ুয়া, সৃজনশীল—যা-ই হোক না কেন।
🔶 ব্যক্তিগত পরিসরে আস্থা দিন, নজরও রাখুন
বিশেষ করে কিশোর বয়সী সন্তানদের ক্ষেত্রে নজরদারি জরুরি, কিন্তু অতিরিক্ত কৌতূহল নয়। বন্ধুবান্ধব বা চলাফেরা নিয়ে সচেতন থাকুন, কিন্তু সবকিছু জিজ্ঞেস করলে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বরং আস্থা রাখুন—তার ভালোবুঝি তৈরি করতে সাহায্য করুন।
🔶 রুটিন মেনে একসঙ্গে সময় কাটান
পরিবারে একটি রুটিন তৈরি করুন, যাতে আপনি এবং আপনার সন্তান—দুজনেই মানেন। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে এবং সম্পর্ক হবে আরও গভীর। সে আপনাকে ‘অভিভাবক’ নয়, ‘বন্ধু’ হিসেবেই ভাবতে শুরু করবে।
শেষ কথা:
শাসন নয়, সন্তানের আত্মবিশ্বাস ও অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানানোই প্রকৃত প্যারেন্টিং। বন্ধু হতে পারলেই আপনি গড়ে তুলতে পারবেন একজন আত্মবিশ্বাসী, সুস্থ মানসিকতার মানুষ। সন্তানকে ভয় নয়—বিশ্বাস দিন, তবেই সে আপনাকে আপন করে নেবে।