জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

০ মতামত 39 views

আজ ৫ আগস্ট, (৩৬ জুলাই) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের ইতি টানা হয়। দিনটি পরবর্তীতে ‘৩৬ জুলাই’ নামেও পরিচিতি পায়।

জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। রাজধানী ঢাকাসহ ৬৪টি জেলায় সকাল ৯টায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। দেশের প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া, মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজনও করা হয়েছে।
রাজধানীতে কেন্দ্রীয় আয়োজন

ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দিনব্যাপী আয়োজিত হচ্ছে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা’। এর মূল মঞ্চ, আধুনিক সাউন্ড ও লাইটিং সিস্টেম ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে ওয়াটারপ্রুফ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীজুড়ে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য। বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং চলছে গোয়েন্দা নজরদারি।
ঘোষণাপত্র পাঠ ও ড্রোন শো

দিবসের মূল আকর্ষণ হিসেবে বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন অনুষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় থাকবে বিশেষ ড্রোন শো এবং রাত ৮টায় পরিবেশিত হবে ব্যান্ড সংগীতানুষ্ঠান।
রাষ্ট্রপতির বাণী

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন,

“বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।”

তিনি আরও বলেন,

“জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছিল এর মূল লক্ষ্য।”

রাষ্ট্রপতি আরও আশা প্রকাশ করেন,

“ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটনের মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে ‘জুলাই চেতনা’র পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। সংস্কারের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে।”

Leave a Comment