বগুড়ার শেরপুরে গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কে খানাখন্দের খড়গ!

০ মতামত 162 views

জনদুর্ভোগ চরমে, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

সানোয়ার হোসেন, শেরপুর (বগুড়া): বগুড়ার শেরপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের জন্য যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছয়টি জায়গায় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়ে চলাচল কার্যত দুর্বিষহ করে তুলেছে। বর্ষার পানি জমে এসব গর্ত ঢেকে গিয়ে সড়কটি হয়ে উঠেছে মরণফাঁদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক সময় এই সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করলেও এখন খানাখন্দে পড়ে প্রায়ই আটকে যাচ্ছে যাত্রী ও মালবাহী যান। বৃষ্টির পানি জমে গর্ত বোঝা যাচ্ছে না, ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী, মির্জাপুর ও ভবানীপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন কেনাকাটা, চিকিৎসা, অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য। সড়কটির দুই পাশে রয়েছে ২০-২৫টি সেমি অটোরাইস মিল, চাতাল, বাছাই মিল ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এইসব প্রতিষ্ঠানের মালামাল পরিবহনে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুর সড়কের পাশে রয়েছে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও মক্তব। ভাঙাচোরা সড়কে চলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সময়ে মতো স্কুলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃদ্ধ, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য যাতায়াত তো আরও দুর্বিষহ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন,
“সড়কটি এতটাই খারাপ যে ধান-চাল পরিবহনে ট্রাক ড্রাইভাররা দ্বিগুণ ভাড়া চায়। কখন গর্তে পড়ে গাড়ি নষ্ট হয়— তার কোনো ঠিক নেই। মাঝে মাঝে গাড়ি বিকল হয়ে বিপাকে পড়তে হয়।”

শেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ জানান,
“ইজিবাইকে কলেজে যাওয়া যেন রোলার কোস্টার রাইড। গাড়ি হেলে-দুলে চলে, মনে হয় পড়ে যাব। বৃষ্টির সময় এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।”

ভবানীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিক আহমেদ বলেন,
“এই সড়কে রিকশা, সিএনজি উল্টে যাওয়াও নিত্যদিনের ঘটনা। ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে, কষ্ট হয়েছে শতগুণ। দ্রুত সংস্কার না হলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে।”

জানা গেছে, প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ করা হয়েছিল মহাসড়কের চাপ কমাতে। তবে অযত্ন-অবহেলায় অল্প সময়েই সড়কটির বেহাল দশা দেখা দেয়।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন,
“সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে এবং ঠিকাদারও নির্ধারিত হয়েছে। বৃষ্টির পরপরই মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দেরি না করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হোক—না হলে এ সড়ক একসময় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।

Leave a Comment