ইসরায়েলের ১৮ বছরের অবরোধ ভেঙে গাজার পথে ফ্লোটিলার ৩০ নৌযান

০ মতামত 40 views

গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে যাত্রা শুরু করা মানবিক সহায়তা জাহাজবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ১৩টি নৌযান আটকে দিয়েছে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। তবে এখনো বহরের ৩০টি নৌযান গাজার উদ্দেশে এগিয়ে চলেছে।

বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলার বেশ কয়েকটি নৌযান থামানো হয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপদে ইসরায়েলি বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে।”

এই ফ্লোটিলায় অংশ নিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। তাকেসহ আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, “গ্রেটা থুনবার্গ এবং তার বন্ধুরা নিরাপদ ও শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।”

ফ্লোটিলা মিশনের পেছনে কারা?

  • গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মূলত চারটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগ—
  • ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন
  • গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা
  • মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা
  • সুমুদ নুসানতারা

গত ৩১ আগস্ট স্পেনের একটি বন্দর থেকে ৪৩টি নৌযান নিয়ে গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে তারা। এই জাহাজগুলোতে ৪৪টি দেশের ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন পার্লামেন্ট সদস্য, আইনজীবী, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবিক সহায়তাকর্মীরা।

কোথায় ও কীভাবে আটক?

বুধবার সন্ধ্যার পর ফ্লোটিলার বহরটি যখন গাজার উপকূল থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল, তখন ইসরায়েলি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ তাদের ঘিরে ফেলে এবং ১৩টি নৌযান আটক করে।
আটক জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটির নাম জানা গেছে—স্পেক্টার, অ্যালমা এবং সাইরাস।

আটক যাত্রীদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে জানান, তারা একটি অহিংস মানবিক সহায়তা মিশনে অংশ নিয়েছিলেন, এবং ইসরায়েলি বাহিনীর এ বাধাকে তারা “অপহরণ” হিসেবে দেখছেন। অনেকেই পাসপোর্টসহ ছবি-ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলের এই পদক্ষেপে উদ্বেগ জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস। তিনি এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, “আজ রাতে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি ছিল একটি শান্তিপূর্ণ মিশন, যার উদ্দেশ্য ছিল গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকটে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

যাত্রা থেমে নেই

ইসরায়েলি বাহিনী ১৩টি নৌযান আটক করলেও বাকি ৩০টি নৌযান এখনও গাজার উপকূলের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
এক বিবৃতিতে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, “ইসরায়েলের এসব অবৈধ পদক্ষেপ আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা আমাদের মিশন চালিয়ে যাব এবং গাজায় মানবিক করিডর প্রতিষ্ঠা করব।”

১৮ বছরের অবরোধ ভাঙার চেষ্টা

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সাল থেকে গাজার সমুদ্র উপকূল অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। গাজায় কোনো কার্যকর সমুদ্রবন্দর নেই, ফলে আন্তর্জাতিক কোনো জাহাজ বা নৌযান সেখানে ভিড়তে পারে না।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা যদি গাজার উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তবে তা হবে ১৮ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক নৌবহরের গাজা উপকূলে পৌঁছানো।

ফ্লোটিলা সর্বশেষ যে তথ্য দিয়েছে, তাতে স্থানীয় সময় রাত ৩:৩০টায় ৩০টি নৌযান গাজার উপকূল থেকে ৪৬ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৮৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছিল।

Leave a Comment