আবারও ইসির কাছে শাপলা প্রতীক চেয়ে চিঠি দিয়েছে এনসিপি

০ মতামত 36 views

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আবারও ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইসি সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠির সঙ্গে প্রতীকের সাতটি নমুনা চিত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে এনসিপি জানিয়েছে, ‘শাপলা’ প্রতীক গণমানুষের সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক ও মানসিক সংযোগ তৈরি করেছে। তাই ইসির তালিকায় থাকা অন্য প্রতীকগুলোর মধ্যে কোনোটি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতীক বিতর্ক ও এনসিপির অবস্থান

চিঠিতে এনসিপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পূর্ববর্তী আলোচনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছে। দলটির দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী ইসি নতুন প্রতীক তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্ট কমিটি সর্বমোট ১৫০টি প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছিল, যেখানে ‘শাপলা’ প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এনসিপি জানায়, গত ৪ জুন ইসির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে—

২২ জুন: এনসিপি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে এবং প্রতীক সংরক্ষণের অনুরোধ জানায়।

৩ আগস্ট: প্রতীকের পছন্দক্রম হিসেবে ১. শাপলা, ২. সাদা শাপলা, ৩. লাল শাপলা উল্লেখ করে ইসিতে চিঠি দেয়।

২৪ সেপ্টেম্বর: আরও একটি আবেদন করা হয়। তবে এনসিপির অভিযোগ, এসব আবেদনের বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

এরই মধ্যে, ৩০ সেপ্টেম্বর ইসি একটি চিঠি প্রেরণ করে, যেটিকে এনসিপি ‘বিধিসম্মত নয়’ বলে দাবি করছে, কারণ আগের আবেদনের নিষ্পত্তি ছাড়াই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আইনি অবস্থান ও জনমত

চিঠিতে এনসিপি উল্লেখ করেছে, দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট আইনজীবী লিখিতভাবে মত দিয়েছেন যে, শাপলা প্রতীক বরাদ্দে কোনো আইনি বাধা নেই। এমনকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “শাপলা প্রতীক এনসিপিকে না দেওয়াটা বড় কোনো আইনি জটিলতা নয়—এটা বরাদ্দ দেওয়া যেতেই পারে।”

এছাড়া, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও এনসিপির অনুকূলে শাপলা প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন।

কমিশনের প্রতি অভিযোগ

এনসিপির দাবি, নির্বাচন কমিশন ‘শাপলা’ প্রতীক ইস্যুতে পক্ষপাতদুষ্ট ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে। প্রতীক অন্তর্ভুক্তি ও বরাদ্দে কমিশনের সিদ্ধান্তহীনতা তাদের প্রতি এক ধরনের বিরূপ মনোভাবের প্রতিফলন। দলটি মনে করে, এই আচরণ ইসির সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

Leave a Comment