ত্রয়োদশ নির্বাচন ও বিএনপির ‘মিশন গণজোয়ার’: কৌশলগত রূপান্তর নাকি রাজনীতির নতুন সমীকরণ?

০ মতামত 45 views

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

তৃণমূলে আগাম বার্তা: প্রার্থীর নাম ঘোষণা ও মাঠ দখল বিএনপির হাইকমান্ডের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চাল হলো নির্বাচনের ঢের আগেই ২৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা। এটি দ্বিমুখী সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে। প্রথমত, এর মাধ্যমে দলীয় কোন্দল নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত জিইয়ে না রেখে আগেই মিটিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন আর ড্রইংরুমের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই; তারা ক্ষেত-খামার থেকে টং দোকান—সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন। এটি কেবল জনসংযোগ নয়, বরং মাঠপর্যায়ে ধানের শীষের মনস্তাত্ত্বিক বিজয় নিশ্চিত করার এক ব্লু-প্রিন্ট।

অভ্যন্তরীণ তোষণ নীতি: বহিষ্কৃতদের ঘরে ফেরা রাজনীতিতে সংখ্যাতত্ত্ব একটি বড় ফ্যাক্টর। গত কয়েকদিনে তিন শতাধিক বহিষ্কৃত নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিএনপি প্রমাণ করেছে, এই মুহূর্তে তারা কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ‘জিরো টলারেন্স’ থেকে সরে এসে ‘জিরো রিস্ক’ পলিসিতে হাঁটছে দলটি। দলের ভেতরে ক্ষোভ প্রশমন এবং সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা মূলত ‘গণজোয়ার’ সৃষ্টির পূর্বশর্ত। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানেন, প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও নির্বাচনের মাঠে নিজ দলের বিদ্রোহ বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

উপসংহার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা দৃশ্যত মনে হচ্ছে, বিএনপি একটি ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালকে তারা নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার ‘গোল্ডেন পিরিয়ড’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে, ধানের শীষের এই ‘গণজোয়ার’ তৈরির স্বপ্নে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ভূ-রাজনীতির অদৃশ্য সমীকরণ।

Leave a Comment