শান্তিরক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ: সুদানে শহীদ ৬ বাংলাদেশি বীরের জানাজা সম্পন্ন; ড্রোন হামলার কড়া প্রতিবাদ জানাল সেনাবাহিনী

০ মতামত 25 views

সুদানের বিতর্কিত আবেই (Abyei) অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (UNISFA) কর্মরত অবস্থায় বর্বরোচিত ড্রোন হামলায় শাহাদাতবরণকারী ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নামাজে জানাজা আজ রবিবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। শোকাতুর পরিবেশে দেশের এই বীর সন্তানদের শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়

আজকের জানাজায় অংশগ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া সামরিক ও বেসামরিক স্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজার শুরুতে শহীদ শান্তিরক্ষীদের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করা হয়। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় যখন শহীদদের নিকটাত্মীয়রা তাঁদের স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন। জানাজা শেষে শহীদদের প্রতি যথাযথ সামরিক ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

জাতিসংঘের শোক ও পতাকা হস্তান্তর

জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইউনিসফা-এর চিফ কমিউনিটি লিয়াজোঁ অফিসার মি. বরিস-এফ্রেম চৌমাভি (Mr. Boris-Ephrem Tchoumavi)। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে জাতিসংঘের পতাকা তুলে দেন।

একই সঙ্গে, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব শহীদদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষরিত পৃথক শোকবার্তা শোকসন্তপ্ত পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।


গভীর বিশ্লেষণ: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বাংলাদেশের অবস্থান

গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংঘটিত এই নজিরবিহীন ড্রোন হামলা শান্তিরক্ষা মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ওই হামলায় ৬ জন শহীদ হওয়ার পাশাপাশি কেনিয়ার নাইরোবিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৯ জন শান্তিরক্ষী।

সেনাবাহিনীর কঠোর প্রতিবাদ: এই ন্যাক্কারজনক হামলার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বসে থাকেনি। ঘটনার পরপরই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনটি মূল দাবি জানানো হয়েছে:

  1. হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
  2. ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধে মিশন এলাকায় অবিলম্বে ড্রোন প্রতিরোধমূলক প্রযুক্তি (Anti-drone systems) মোতায়েন করা।
  3. শান্তিরক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা প্রটোকল পুনর্মূল্যায়ন করা।

বিশ্বের অস্থিরতম অঞ্চলগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তবে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সুদানের এই ঘটনা বিশ্ব সম্প্রদায়কে এটিই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, শান্তির মূল্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশকে বারবার তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারাতে হচ্ছে।

Leave a Comment