দিল্লির আশীর্বাদপুষ্টরাই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুন দিয়েছে: আজাদি মুভমেন্টের সভা

০ মতামত 28 views

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও নয়া বন্দোবস্ত’ শীর্ষক এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেছেন যে, যারা দিল্লির তাঁবেদারি করে তারাই দেশে বিশৃঙ্খলা ও অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া অডিটোরিয়ামে আজাদি মুভমেন্ট আয়োজিত এই সভায় তারা বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সাভারে মানুষ পুড়িয়ে মারা এবং লকডাউনের নামে অরাজকতা সৃষ্টিকারীরাই সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে।


ভারতের আগ্রাসন ও ‘র’-এর প্রভাব নিয়ে ড. দিলারা চৌধুরী

সভার প্রধান অতিথি বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “ভারত কখনোই বাংলাদেশের বন্ধু ছিল না। আমাদের ক্যান্টনমেন্টেও একসময় ‘র’-এর অফিস ছিল। সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নানা উইং ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হলেও ভারতীয় আগ্রাসনের কারণে আমরা সেই সুফল পুরোপুরি ঘরে তুলতে পারিনি। বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার ইতিহাস রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমের ‘দ্বিমুখী নীতি’র সমালোচনা

জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্টস অ্যালায়েন্সের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল ফরাজী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ঘটনায় সুশীল সমাজের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন:

  • যখন নয়া দিগন্ত ও সংগ্রাম পত্রিকায় হামলা হলো, তখন এই সুশীলরা কোথায় ছিলেন?
  • আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ এবং মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার সময় কেন প্রতিবাদ হয়নি?
  • দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি বন্ধের সময় কেন এই সংহতি দেখা যায়নি?

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, তাদের আবারও জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হবে।

ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “হিন্দুস্তানের নীলনকশা অনুযায়ী বাংলাদেশে আর রাজনীতি চলবে না। অতীত বা বর্তমান—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদকেই আমরা মেনে নেব না।”

অন্যদিকে, মেজর (অব.) শাহিন অভিযোগ করেন যে, বিগত ২০ বছরে বিএনপি’র চরিত্র হনন এবং ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরির পেছনে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো ভারতপন্থি মিডিয়ার বড় ভূমিকা ছিল। তারা এক-এগারোর অবৈধ সরকারের কুশীলব হিসেবে কাজ করেছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ধর্মীয় পরিচিতি ও দেশপ্রেম

লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, দাড়ি-টুপিকে জঙ্গিবাদের প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হলেও এ দেশের মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষরাই (যেমন: মাওলানা ভাসানী, হাদি বা সাদিক কায়েম) সবসময় দেশ ও মানুষের জন্য প্রকৃত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

ব্যারিস্টার শাহরিয়ার তার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পুলিশের কিছু বিতর্কিত ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান।

ফাহিম ফারুকীর সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুব, সংগঠক ডিউক হুদাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

Leave a Comment